ইস্তেগফার বিষয়ে বিরল ঘটনা

 আমাদের মহানবি সঃ তাঁর সাহাবি ও আমাদের ইস্তেগফার পরার বিষয়ে  অনেকবার অনেক ভাবে তাগিদ দিয়েছেন।আমরা পবিত্রতার সাথে ইস্তেগফার পাঠের মাধ্যমে আমাদের ইমান কে আরও শক্তিশালী করতে পারি এবং এর মাধ্যমে আমাদের সকল সগিরা গুনাহ মাফ হয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি স্বয়ং আল্লাহ্‌ নিজে আমাদের দিয়েছেন।

ইস্তেগফার এর গুরুত্ব আমরা নিচের ঘটনা দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি—

আমাদের ইসলামে ৪ টি প্রসিদ্ধ মাজহাব আছে।তাঁর মাঝে একটি হল হাম্বালি।আর এর ধারক,বাহক ও প্রতিষ্ঠাতা হল ইমাম আহম্মদ ইবনে হাম্বল।তিনি একজন জগত বিখ্যাত মুহাদ্দিস।আর উনি একজন হাদিস বিশ্লেষক। তিনি তাঁর শেষ বয়সে হাদিস সংগ্রহের জন্য দেশ বিদেশে সফর করতেন।একদিন এক শীতের রাতে তিনি হাদিস সংগ্রহের জন্য সফর এ বের হয়েছেন। তখন রাতে তিনি একটা মসজিদে আশ্রয় নিতে চাইলে সেই মসজিদের দারোয়ান তাকে তা করতে দেয় নি। তখন তিনি মসজিদ থেকে বেরিয়ে বাজারের দিকে হাঁটতে থাকেন।তখন তিনি এক খাব্বাস এর সরনাপন্ন হন। খাব্বাস হল যিনি রুটি বানিয়ে বিক্রি করেন।তখন তিনি খাব্বাসের অনুমতিক্রমে তাঁর দোকানে রাত্রি যাপনের নিয়ত করেন।তিনি লক্ষ করলেন রুটি বিক্রেতা সকল কাজের পরে ইস্তেগফার করেন।তিনি রুটি বিক্রেতার কাছে এই বারবার ইস্তেগফার করার কারন  জানতে চান।অতঃপর খাব্বাস বলেন, তিনি ইস্তেগফার করার কারনে মুস্তাজাবুদ দাওয়ার অধিকারি হন।মুস্তাজাবুদ দাওয়া হল এমন বান্দা যিনি কোন দোয়া করলে সাথে সাথে আল্লাহ দরবারে কবুল হয়ে যায়।খাব্বাস বলেন,আমি আমার এই জীবনে আল্লাহ্‌র কাছে যা চেয়েছি তাই পেয়েছি।কিন্তু আল্লাহ্‌ আমাকে একটা জিনিস দেয়নি যা আমি প্রতিদিন চাই।এটি শুনে হাম্বল একটু অবাক হয়ে তাকে বললেন, কি এমন জিনিস যা তুমি চেয়েছ কিন্তু পাওনি? তখন খাব্বাস বলল, আমি আমার মৃত্যুর আগে মহাম্মহ ইবনে হাম্বল কে নিজ চোখে দেখতে এবং তাঁর সাথে মুসাফা করতে চেয়েছি।কিন্তু আমি আজ তা পারিনি।এই কথা শুনে মোহাম্মদ ইবনে হাম্বাল তাঁর চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলেননা। তিনি কেঁদে বললেন আমিই সেই হাম্বল। যার সাথে সাক্ষাৎ করতে তুমি প্রতি রাতে আল্লাহ্‌র কাছে ইস্তেগফার করে বলতে। আমার সাথে দেখা করতে তোমায় আর আমার মাঝারে যেতে হবে না আমি আজ তোমার সামনে স্বয়ং দাড়িয়ে।


Comments